Opu Hasnat

আজ ২৭ সেপ্টেম্বর সোমবার ২০২১,

নানা অনিয়মে চলছে টাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট টাঙ্গাইল

নানা অনিয়মে চলছে টাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট

নানা অনিয়মে চলছে টাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট। প্রতিষ্ঠানের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মহিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে উঠেছে  নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। মোঃ মহিবুল ইসলাম পদোন্নতি পেয়ে গত ২৭ এপ্রিল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ শালগড়িয়া পাবনায় যোগদান করলেও দশ দিনের জয়েন লিভ নিয়ে অজানা রহস্যে টাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ’র দায়িত্ব পালন করছেন। এসময় তিনি টাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের সকল ধরনের প্রতিষ্ঠানিক কাগজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে সাক্ষর করেন । 

অপরদিকে নাম না প্রকাশ করার শর্তে  ইন্সটিটিউটের একাধিক কর্মকর্তা ও শিক্ষাথীরা জানান, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় দুর্নীতির মাধ্যমে বিশেষ কিছু পরীক্ষার্থীদের সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যেই যোগদানের ঘটনাটি গোপন করে স্বপদে বহাল রয়েছেন। এভাবেই তিনি তার অনুসারী কতিপয় শিক্ষক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দায়িত্ব প্রদান করে তার কার্যক্রম চালিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষার্থীদের নিকট হতে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। 

সরেজমিনে টাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করতে গেলে জেলা প্রশাসনের দোহাই দিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের কলেজে ঢুকতে দেননি মহিবুল ইসলাম। এসময় তিনি নিজেকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবেও দাবি করেন। এরপর ১৫ মে গণমাধ্যম কর্মীরা পুনরায় টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটে মহিবুল ইসলামের সাথে দেখা করতে গেলে জানা যায় তিনি ঢাকা অবস্থান করছেন তবে প্রাতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকার কথা  স্বীকার করেনি কেউ । যদিও নোটিশ বোর্ডে ইন্সট্রাকটর খাদেম জিলানীর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে স্বাক্ষর করা নোটিশ টাঙ্গানো দেখা যায়। এসময় তার অন্যত্র যোগদানের খবরটি গোপন রাখার কথা জানান তার সহকর্মীরা। এসময় মহিবুল ইসলামের স্বাক্ষর করা প্রত্যয়ন পত্র নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যাক্ষিত হয়ে নতুন করে প্রত্যয়ন পত্র নেয়ার ব্যাপারে একাধিক ছাত্র ও অভিবাভককে খাদেম জিলানী’র সাথে পরামর্শ করতে দেখা যায়।

প্রাতিষ্ঠানিক চলমান প্রক্রিয়া তোয়াক্কা না করে জ্যেষ্ঠদের পাশ কাটিয়ে নিয়ম বহিঃর্ভুতভাবে নিজের সুবিধামত কনিষ্ঠদের ভারপ্রাপ্ত করার অভিযোগ রয়েছে মহিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তার পদোন্নতির পর জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে মোঃ মমতাজ উদ্দিন আহাম্মেদের ভারপ্রাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও পদোন্নতিজনিত কারণে তিনিও ঢাকা অবস্থান করার কথা সহকর্মীদের মাধ্যমে জানা যায়। তবে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় প্রতিষ্ঠানটিতে।  পরবর্তীতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে মুস্তাফিজুর রহমানের ভারপ্রাপ্ত হওয়ার কথা  থাকলেও তাকে ভারপ্রাপ্ত না করে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় তারই কনিষ্ট খাদেম জিলানীকে। এভাবেই কোন ধরনের নিয়ম নিতির তোয়াক্কা না করে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করায় মহিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছাত্র-ছাত্রী সহ সহকর্মীরা।

অন্যদিকে সরকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে টাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটে নেই কোন তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা । প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য প্রাপ্তির জন্য ফরম চাইলে তারা জানান, প্রতিষ্ঠানে এধরনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা নেই এবং এধরনের ফরম তারা কোন দিন দেখেননি।

মহিবুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এখন কথা বলার সময় নেই বলে জানান।